আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও উৎসবমুখর করতে সারা দেশের পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক ও প্রহরীর ভূমিকা পালন করবেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে তারা এই দায়িত্ব পালন করবেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধান করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। অতীতে বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে মূলত কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ চক্রের বিরুদ্ধে। তাই এবার কোনো দুষ্কৃতকারী যেন পূজার আনন্দ পণ্ড করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলের দায়িত্বশীল নেতারা জানান, দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নয়, এটি বাঙালির একটি বড় উৎসব। এই উৎসবে দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপে যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং পূজা উদ্যাপন পরিষদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবেন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে রাতে মণ্ডপ পাহারা দেওয়া এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দিনরাত পালাক্রমে নিয়োজিত থাকবেন তারা।
উল্লেখ্য যে, অতীতে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে পূজামণ্ডপে নানা ধরনের নাশকতার ইতিহাস রয়েছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। বর্তমানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়তে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। দলটির এই উদ্যোগকে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখ and আশা প্রকাশ করছে যে, এর মাধ্যমে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক