গাইবান্ধায় দীর্ঘ ১৯ বছর আগের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। শাশুড়ি মাহমুদা বেগমকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অপরাধে জামাতা বিরাজ আলীকে (৫০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতবিারে জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই রায় প্রদান করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত এই রায় দেন বলে সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে। ২০০৫ সালে গাইবান্ধা জেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল। হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জামাতা বিরাজ আলীর সঙ্গে তার শাশুড়ি মাহমুদা বেগমের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বিরাজ আলী ধারালো ছুরি দিয়ে মাহমুদা বেগমকে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত জামাতা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ তাকে আটক করে।
পরবর্তীতে পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ শুনানির পর আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৯ বছর পর হলেও নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পেল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত রায় ঘোষণার পর তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই রায় সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক