নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, গত মাসের ভয়াবহ বন্যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ঝুঁকির একটি সতর্কবার্তা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নেপালকে সহায়তা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জাতিসংঘে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। গত মাসের সেই প্রলয়ংকরী বন্যায় দেশটির বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছিল এবং ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছিল।
জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে শুধু নেপাল নয়, বরং গোটা দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বাস্তুসংস্থান ও জনজীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত, অন্যথায় এ ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় আরও ঘন ঘন দেখা দেবে।
উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের এই বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে বিগত দিনগুলোতে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও নানা পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশে যেমন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে, তেমনি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও জনমতের প্রতিফলন ঘটছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক ইস্যুগুলোতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।
বালেন্দ্র শাহের এই সতর্কবার্তা বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা ও এর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও একবার স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। নেপালের এই সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো দ্রুত এগিয়ে আসবে এবং কার্যকর সহায়তা প্রদান করবে বলে বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক