ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের নির্বাচনি পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। রোববার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জামায়াত প্রতিনিধিদলটি ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সেনা মোতায়েনের জোরালো দাবি জানান।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনগণের মনে গভীর সংশয় তৈরি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম যখন এগিয়ে চলেছে, তখন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নির্বাচন ব্যবস্থার যে নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ভিত্তি তৈরিতে দেশের প্রতিটি নির্বাচন স্বচ্ছ হওয়া আবশ্যক। পাশাপাশি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো যখন জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে সোচ্চার, তখন জামায়াতে ইসলামীর এই প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের ওপর নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চাপ অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ বা তাদের সমমাতা কোনো শক্তি যাতে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়েও প্রশাসনকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল। অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলীয়করণকৃত নির্বাচন কমিশনের কারণে সাধারণ মানুষ ভোটবিমুখ হয়ে পড়েছিল। সেই আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হলে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে জামায়াত প্রতিনিধিদল।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক