চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় নিজের প্রতিষ্ঠিত একটি মহিলা মাদ্রাসার ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগে মো. নুরুল আলম নামের এক স্থানীয় জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতনমহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত নুরুল আলম কচুয়া এলাকায় একটি মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করে আসছেন। মাদ্রাসার পরিচালনার আড়ালে তিনি নানা ধরনের অপকর্ম চালিয়ে আসardছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রী তার কাছে পড়তে গেলে শিক্ষকতার আড়ালে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করা হয় এবং তাকে যৌন হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। নির্যাতিত ছাত্রী ভয়ে প্রথমে বিষয়টি পরিবারকে জানালে অভিভাবকরা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও থানায় যোগাযোগ করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং অভিযুক্ত নুরুল আলমকে আটক করতে সক্ষম হয়। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং অপরাধী যেই হোক না কেন, তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারির দাবি তুলেছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক