ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশের মুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো অবস্থায় ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বাসও জব্দ করা হয়েছে। গত শুক্রবার সংঘটিত এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানান হয়েছে যে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তবে ঠিক কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে রিমান্ডে নিয়ে আরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমবর্ধমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের দুর্বৃত্তরা দায়ী বলে অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার সকালে বনানী সংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে একটি অজ্ঞাত লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচিত হবে এবং এর পেছনে আরও কোনো প্রভাবশালী চক্র জড়িত আছে কি না, তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক