ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা যুদ্ধের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। তাই ইরানে আবার হামলা চালিয়ে ওয়াশিংটন যেন জনমতকে উপেক্ষা না করে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নানা সমীকরণের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সাংবাদিকদের বলেছেন, মার্কিন নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের উচিত নিজেদের দেশের জনগণের শান্তিপ্রিয় মনোভাবকে সম্মান জানানো। অতীতে বিভিন্ন সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ সবসময়ই যুদ্ধ ও রক্তক্ষয়ের বিপক্ষে রায় দিয়েছে। তাই নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানোর অর্থ হবে জনমতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা। তেহরান সবসময় আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে রয়েছে এবং যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন বিশ্ব রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে আসছে। এর মধ্যে অতীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নানা কূটনৈতিক মেরুকরণ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং যুদ্ধংদেহী মনোভাব পরিহার করার ওপরই সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে তেহরান। ওয়াশিংটন যদি কূটনৈতিক আলোচনার পথ বাদ দিয়ে পুনরায় সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তবে তার পরিণতি গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্যই ক্ষতিকর হবে বলে সতর্ক করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক