ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ধারাবাহিক হামলায় নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সচেতনভাবে চেপে যাচ্ছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইউএই, বাহরাইন এবং কুয়েতে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটলেও এসব দেশের সরকারিভাবে দেওয়া ক্ষয়ক্ষতির বিবরণের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতির তীব্র অমিল রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিসহ কৌশলগত বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার পর এই গোপনীয়তা বজায় রাখার প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থেই মূলত এই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বাজার চাঙ্গা রাখা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট এড়াতে সরকারগুলো ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকছে। তবে স্যাটেলাইট ইমেজ এবং স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের বরাစ် পাওয়া তথ্যে জানা যায়, হামলার ফলে এসব দেশের বেশ কিছু তেল শোধনাগার, সামরিক স্থাপনা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই ধরনের তথ্য গোপন রাখার কৌশল দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা এবং তাদের সহযোগীদের নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ড্রোন হামলার মুখে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামরিক বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, এই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা বজায় না রাখলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরণের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলো।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক