চট্টগ্রাম নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অনুদান দিতে যাচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি বা জাইকা। এ অনুদানের আওতায় নগরের বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে ৫০টিরও বেশি আধুনিক বর্জ্যবাহী যান সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে ল্যান্ডফিল নির্মাণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়নেও এই অর্থ ব্যয় করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বৈদেশিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অংশ হিসেবে জাইকার এই বড় অংকের অনুদান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমে গতি আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বৈদেশিক সহায়তার বড় বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও, বর্তমান সময়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির এই প্রকল্পের মাধ্যমে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। বিশেষ করে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা রোধে এই উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে সুশৃঙ্খলভাবে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে অপসারণের জন্য আধুনিক এই যানবাহনগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই জাইকার একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে প্রকল্পের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়ন করবে। এরপরই অনুদানের অর্থ ছাড় এবং যন্ত্রপাতি আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন চট্টগ্রামকে একটি পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক মহানগরী হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক