জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে রচিত বাংলাদেশের সংবিধানকে অবমূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন।
তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদে গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিফলন রয়েছে। জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, যা আজও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন প্রস্তাব ও আলোচনার প্রেক্ষাপটে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে সংবিধানের অনেক মৌলিক জায়গায় হস্তক্ষেপ করেছিল এবং এর গণতান্ত্রিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল।
ড. কামাল হোসেন দেশের বিশিষ্ট আইনবিশেষজ্ঞদের সাথে এক বৈঠকে এ কথা বলেন। এ সময় তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সংবিধানের সঠিক চর্চা এবং এর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে বর্তমানে যখন রাষ্ট্র সংস্কারের নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তখন জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, অতীতে আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার যে অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও আইনজীবীরাও ড. কামালের সুরের সাথে সুর মিলিয়ে বলেন যে, জনগণের অধিকার সুরক্ষায় সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদী বা অগণতান্ত্রিক চর্চার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়েও তারা সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক