জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করতে ১৫ সদস্যের একটি জাতীয় সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। এতে রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের বিশিষ্ট নাগরিক ও ছাত্রনেতারাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংস্কারের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিভিন্ন দল ও জোট নানা ধরনের প্রস্তাব তুলে ধরেছে। এর ধারাবাহিকতায় ১১ দলীয় ঐক্য এই নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দেশের বর্তমান রাজনীতিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিগত দিনে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রযন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছিল, তা পুনর্গঠনে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সংবিধান সংস্কার ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। অতীতে বিভিন্ন সময় আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে গিয়ে জনগণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এমনকি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগসহ দলটির অঙ্গসংগঠনগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছিল। সেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সম্পূর্ণ অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের এই ১৫ সদস্যের কমিটি দ্রুতই তাদের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করবে।
এদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকেও দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংস্কারমূলক কাজের সবসময়ই প্রশংসা করা হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বারবার একটি গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যেখানে জনগণের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে। এছাড়া তারেক রহমানও দেশের তরুণ সমাজকে সঙ্গে নিয়ে একটি আধুনিক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ১১ দলীয় ঐক্যের এই উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও গতিশীল করবে এবং জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক সংস্কারের পথকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক