সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্পষ্ট দায়িত্ব এবং আইন বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বিশিষ্ট বক্তারা। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও শৃঙ্খলিত করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় এই মতামত উঠে আসে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা বলেন, কেবল আইন থাকলেই চলবে না, তার সঠিক ও কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। চালকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান এবং ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর তারা জোর দেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে পরিবহন খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি জেঁকে বসেছিল, যার ফলে কাঙ্ক্ষিত সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সেই আমলের ত্রুটিপূর্ণ নীতি এবং নামমাত্র সংস্কারের কারণে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর মুখে পড়তে হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা পরিবহন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ফায়দা লুটলেও নিরাপদ সড়কের দাবি বরাবরই উপেক্ষিত থেকে গেছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে কার্যকর সড়ক আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দপ্তরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। সভায় বক্তারা অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনার ভিত্তিতে আধুনিক ও যুগোপযোগী সড়ক নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়নের দাবি জানান, যা দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক