অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রবেশ করতে গিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের கடுமையான বাধার মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির দুই সংসদ সদস্য ক্লাইভ লুইস ও লারা বার্ড। জর্ডান থেকে পশ্চিম তীরে প্রবেশের সময় তাদের এবং তাদের সফরসঙ্গীদের দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা হয় এবং প্রায় আট ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এই আকস্মিক ও অপ্রীতিকর ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সংসদ সদস্যরা ফিলিস্তিনি জনগণের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিন পর্যবেক্ষণের জন্য এই সফরে গিয়েছিলেন বলে গণমাধ্যমকে জানান।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, জর্ডান সীমান্ত দিয়ে পশ্চিম তীরে প্রবেশের প্রাক্কালে ইসরাইলি সীমান্তরক্ষী ও নিরাপত্তা বাহিনী তাদের পথরোধ করে। কোনো সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য কারণ দর্শানো ছাড়াই তাদের একটি বিশেষ কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দীর্ঘ আট ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের দুই সদস্যের সঙ্গে এমন আচরণ কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। ফিলিস্তিনের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং স্থানীয় জনগণের ওপর চলা নির্যাতন সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে অবগত করার উদ্দেশ্যেই মূলত এই সফর নির্ধারিত ছিল বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। লেবার পার্টির পক্ষ থেকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর দাবি উঠেছে। এর আগে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে নানা কূটনৈতিক লুকোচুরি দেখা গেলেও বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে এই ধরনের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনৈতিক মর্যাদাকে অবমূল্যায়ন করে যেভাবে জনপ্রতিনিধিদের হেনস্থা করা হয়েছে, তা ফিলিস্তিন সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক