সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাঁস গ্রামে ভদ্রাবতী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে দেড় শতাব্দীরও বেশি পুরোনো চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদ। তিনটি গম্বুজ, পুরু দেয়াল, চুন-সুরকির গাঁথুনি ও সূক্ষ্ম কারুকাজে সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক এই মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও অযত্নে পড়ে থাকলেও অবশেষে এটি সংরক্ষণের জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিদের ভাষ্যমতে, মুঘল ও ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যরীতির সংমিশ্রণে নির্মিত এই মসজিদটি কেবল একটি ইবাদতখানাই নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের প্রাচীন জনপদ ও সংস্কৃতির এক অনন্য সাক্ষী। কালের বিবর্তনে এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মসজিদটির বিভিন্ন অংশে পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করেছিল এবং এর নান্দনিক কারুকাজ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে জানান, মূল স্থাপত্যের কোনো ধরনের পরিবর্তন না করে ঐতিহ্যবাহী চুন-সুরকি এবং প্রাচীন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেই মসজিদটির জীর্ণ উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে আগামী প্রজন্ম এই অঞ্চলের সুপ্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে। এদিকে দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়িত হতে চলায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও মুসুল্লিদের মধ্যে গভীর স্বস্তি ও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করছেন, সংস্কার কাজ শেষ হলে এই ঐতিহাসিক মসজিদটি দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতিহাসপ্রেমী ও পর্যটকরা তাড়াশে ভিড় জমাবেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক