কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাসস্টেশনস্থ ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি বা ইউসিবি ঈদগাহ শাখা থেকে এক গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার অত্যন্ত গুরুতর একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় ব্যাংক খাতে গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের শঙ্কা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. জাবেদ ইকবাল এই ঘটনায় চরম আর্থিক ও মানসিক বিপদের মুখে পড়েছেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী মো. জাবেদ ইকবাল কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের একজন অফিস সহকারী। তিনি গত ৮ নভেম্বর ব্যাংকের উক্ত শাখায় নিজের হিসাব নম্বরে লেনদেন করতে গিয়ে দেখতে পান যে, তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ বা তার সম্মতি ছাড়াই গায়েব হয়ে গেছে। ব্যাংকের স্টেটমেন্টে এই গরমিল দেখে তার মাথায় হাত পড়ে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ব্যাংক কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে জানান, কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা বা সহযোগিতা না পেয়ে তিনি সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েন।
সাংবাদিকদের কাছে নিজের আকুতি জানিয়ে ভুক্তভোগী জাবেদ ইকবাল জানান, তিনি তার সারাজীবনের কষ্টের সঞ্চয় ও বৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ ব্যাংকে নিরাপদ মনে করে রেখেছিলেন। কিন্তু এভাবে ব্যাংক থেকে টাকা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তিনি অবিলম্বে এই ঘটনার সুস্হ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন এবং তার আমানতের সম্পূর্ণ টাকা নিরাপদভাবে ফেরত পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এই বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও কঠোর নজরদারির অভাবে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটছে। ইতিপূর্বে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফ্যাসিবাদের দোসরদের রেখে যাওয়া অনিয়মের ছায়া এখনো কাটছে না। তবে কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
ঘটনার পর প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগী জাবেদ ইকবাল বাদী হয়ে ঈদগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে খুব শীঘ্রই এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক