আসন্ন সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ এর উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য কোনো প্রার্থী যেন ঋণ কিংবা সেবা বিল খেলাপি না থাকেন, তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোন সেবা বিল খেলাপি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য চেয়ে সংস্থাসমূহকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, প্রার্থীর যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই তথ্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
গণমাধ্যমকে জানান ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, নির্বাচন সুষ্ঠু ও আইনানুগ করার স্বার্থে এই তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ইসির পক্ষ থেকে এই বিশেষ চিঠি প্রেরণ করা হয়। মূলত কোনো প্রার্থী যাতে আইন লঙ্ঘন করে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন এবং সকল প্রার্থীর ক্ষেত্রে যেন সমান সুযোগ নিশ্চিত করা যায়, সেজন্যই এই আগাম প্রস্তুতি। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে বিল খেলাপিদের অংশগ্রহণের বিষয়ে নানা প্রশ্ন ওঠায় এবার নির্বাচন কমিশন আরও বেশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের এমন উদ্যোগকে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসনামলে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা নানা অনিয়মের মাধ্যমে পার পেয়ে যেত। তবে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার তাগিদ দিচ্ছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। সাধারণ মানুষও আশা করছেন, সব ধরনের জালিয়াতি ও দুর্নীতি রোধ করে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থা উপহার দেবে বর্তমান কমিশন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক