ভারতের আসামে বাঙালি মুসলমানদের এক হাজার একশটির বেশি বাড়িঘর এবং দশটিরও বেশি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী। গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, ভারতের উগ্রবাদী সরকার সুপরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে এবং ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংসের মাধ্যমে চরম সাম্প্রদায়িকতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিরীহ মানুষের মাথার ছাদ কেড়ে নেওয়া এবং পবিত্র মসজিদ ভেঙে ফেলা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের কাজ হতে পারে না। এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত সরকার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে স্পষ্টতই মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করছে।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধরণের ঘটনা কেবল আঞ্চলিক শান্তিকেই বিঘ্নিত করছে না, বরং দুই দেশের মধ্যকার সম্প্রীতিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত সপ্তাহের শুরুতে, যখন স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার পুনর্বাসন বা উপযুক্ত নোটিশ ছাড়াই ঐতিহ্যবাহী বসতি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো শীতের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক