কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পেয়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছেন স্থানীয় এক জামায়াত নেতার ছেলে। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-এর কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা শুরু হয়। এই ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতা, যিনি গণমাধ্যমকে জানান যে বিষয়টি তার আগে জানা ছিল না।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগে পদ পাওয়া ওই তরুণের বাবা একজন স্থানীয় জামায়াত নেতা। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ওই জামায়াত নেতা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এবং নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, তার ছেলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগে পদ পেয়েছে এমন খবর যদি তিনি আগে জানতে পারতেন, তবে তিনি আগেই তাকে ত্যাজ্যপুত্র করতেন। এই ঘটনার মাধ্যমে পরিবার ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতিতে ভিন্ন ধারার আদর্শের চর্চা থাকলেও একই পরিবারের ভেতরে এমন রাজনৈতিক বিপরীত অবস্থান সচরাচর দেখা যায় না। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর কমিটিতে বিরোধী মতাদর্শের পরিবারের সদস্যের পদ পাওয়ার বিষয়টি বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কিশোরগঞ্জের স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন ধরনের গুঞ্জন ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা মাঠের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। বিশেষ করে বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর কার্যক্রম এবং তাদের কমিটিতে স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পরিবার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করছেন, যা আগাম দিনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক