আগামী ১ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রথমবারের মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ইউএনও সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের শাসনব্যবস্থাকে আরও জবাবদিহিমূলক ও সুসংহত করতে এই প্রথম এই ধরনের কোনো বড় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মাঠ প্রশাসনের এই কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দিতে এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্মেলনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে দেশের সব উপজেলার ইউএনওরা অংশ নেবেন।
সরকারের নীতিনির্ধারক মহල් সূত্রে জানা গেছে, মাঠ পর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারি নীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সঠিক বাস্তবায়নে ইউএনওদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা ধরনের দলীয়করণ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে মাঠ প্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ ছিল প্রকট। তবে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে পুরোপুরি জনমুখী ও দুর্নীতিমুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
সম্মেলনে মূলত উপজেলা পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জনসেবার মানোন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে ইউএনওদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা থাকায় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা তাদের কাজের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের এই প্রথম জাতীয় সম্মেলন দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ভিত আরও শক্ত করতে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনতে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। মাঠ প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই সম্মেলন একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক