আধুনিক সভ্যতার এই যুগে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হলেও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মানসিক সমস্যা। অস্থিরতা, বিষণ্ণতা, হতাশা ও দুশ্চিন্তা এখন মানুষের রোজকার সঙ্গী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বর্তমানে শারীরিক রোগের চেয়ে মানসিক রোগের প্রাদুর্ভাব কোনো অংশে কম নয়। আমরা শারীরিক সুস্থতার জন্য যতটা সচেতন, মানসিক শান্তির বিষয়টি ততোটাই উপেক্ষিত থেকে যায়। অথচ ইসলাম ধর্মে মানবজীবনের প্রতিটি স্তরে মানসিক প্রশান্তি ও সুস্থতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানের এই জটিল ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ সময়ে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক চাপ লাঘবে ইসলামিক জীবনপদ্ধতি হতে পারে এক কার্যকর ও পরীক্ষিত সমাধান।
ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তি ইমান ও তাকওয়ার মধ্যে নিহিত রয়েছে মানসিক শক্তির মূল উৎস। কোরআন মাজিদে আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেছেন, আল্লাহর স্মরণেই কেবল মন শান্ত হয়। এই একটিমাত্র বাণীর ভেতরেই মানসিক প্রশান্তির সুমহান বার্তা লুকিয়ে আছে। আধুনিক মনোবিজ্ঞানীরাও এখন স্বীকার করছেন যে, একাগ্রতা, প্রার্থনা ও মেডিটেশনের মতো বিষয়গুলো মানসিক চাপ কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। ইসলামে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত বা নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মানুষ তার স্রষ্টার সঙ্গে নিবিড় সংযোগ স্থাপন করে, যা মূলত এক ধরণের আত্মিক ও মানসিক থেরাপি হিসেবে কাজ করে। এছাড়া তিউনিসিয়ান দার্শনিক ইবনে খালদুনের সময় থেকেই মানসিক চিকিৎসায় মুসলিম চিকিৎসকদের অবদান অনস্বীকার্য।
দৈনন্দিন জীবনে না পাওয়ার বেদনা, অতিরিক্ত উচ্চাশা এবং পার্থিব প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব মেলাতে গিয়ে মানুষ আজ চরম হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে। কিন্তু ইসলাম মানুষকে সব সময় সব অবস্থায় ধৈর্য ধারণের শিক্ষা দেয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে। এই আশাবাদ মানুষের ভেতরে নতুন করে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জোগায় এবং আত্মহত্যার মতো জঘন্য প্রবণতা রোধ করে। ইসলামে পরনিন্দা, অহংকার, লোভ ও হিংসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা মূলত মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মনকে এসব পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত রেখে একটি পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করতে পারলে হতাশা এমনিতেই কমে যায়।
বর্তমান যুগের এই সংকটময় সময়ে পরিবার এবং সমাজ গঠনে ইসলাম যে সাম্য ও ঐক্যের শিক্ষা দেয়, তা মানুষের একাকীত্ব দূর করতে সাহায্য করে। জাকাত ও সদকার মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান ঘুচে যায় এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়, যা পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি করে। সম্প্রতি বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও গবেষকরা গণমাধ্যমকে জানান যে, মানুষ যদি নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করে এবং ইসলাম নির্দেশিত জীবনযাপন মেনে চলে, তবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়াই বহুলাংশে মানসিক অবসাদ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। তাই পার্থিব সুখের পাশাপাশি আত্মিক শান্তি অর্জনের জন্য ইসলামের সুমহান আদর্শ অনুসরণের বিকল্প কিছু নেই।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক