শালীনতা শব্দটি আজকাল যেন আর সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। যাচ্ছেতাই ব্যবহারে এ শব্দটিই যেন এখন নিপীড়নের শিকার মাজলুমে পরিণত হয়েছে! অথচ এ বিষয়টি নৃ-তাত্ত্বিকভাবে স্বীকৃত যে, পোশাক-পরিচ্ছদ মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। বহুকাল থেকেই পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান এবং পোশাকে শালীনতা বজায় রাখা মানবসভ্যতার অগ্রগতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বর্তমান যুগে এই ধারণার পরিবর্তন ঘটছে এবং নানা আধুনিকতার নামে শালীনতার সীমা লঙ্ঘিত হচ্ছে যা সমাজ গবেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে।
পোশাক কেবল শরীর ঢাকার মাধ্যম নয়, এটি মানুষের রুচি, সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ। ঐতিহাসিকভাবেই বিভিন্ন সমাজে শালীন পোশাকের একটি বিশেষ কদর রয়েছে। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়া এবং পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে অনেক সময় শালীনতার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়। এর ফলে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে এবং তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শালীনতা কেবল নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়, এটি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্যই প্রযোজ্য। পরিমিতিবোধ এবং নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই মূলত প্রকৃত শালীনতা জন্ম নেয়। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সাংস্কৃতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, বরং ফ্যাসিবাদের দোসররা বিভিন্ন মাধ্যমে অনৈতিক সংস্কৃতিকে উসকে দিয়েছিল। বর্তমান সময়ে এসে এই অবক্ষয় রোধে সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য এবং শালীনতার প্রতীক বজায় রেখে এগিয়ে যেতে পারে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক