আজ বিশ্ব ডিম দিবস। ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত তাৎপর্যের সঙ্গে পালিত হয় এই ডিম দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রোটিন শক্তি জোগায় ও সুরক্ষা দেয়। ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এর ব্যবহার আরও বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত এক দশকে দেশে ডিমের উৎপাদন অবিশ্বাস্যভাবে ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এক বিশাল ভূমিকা রাখছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, মানবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ডিমের জুড়ি মেলা ভার। সাশ্রয়ী মূল্যের এই আমিষ উৎসটি দেশের সাধারণ মানুষের আমিষ ও প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বিগত বছরগুলোতে পোলট্রি খাতের উদ্যোক্তাদের নিরলস পরিশ্রম এবং সরকারের নীতিগত সহায়তার কারণে ডিমের উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। তবে উৎপাদন বাড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে দফায় দফায় ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি বিরাজ করছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উৎপাদন খরচ কমানো এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে পারলে ডিমের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে রাখা সম্ভব হবে।
এদিকে ডিম দিবসের এই বিশেষ দিনে দেশের বিভিন্ন খামার ও পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় র্যালি, আলোচনা সভা এবং বিনামূল্যে ডিম বিতরণের মতো জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্তত একটি করে ডিম রাখা উচিত, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য ডিম অপরিহার্য। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকেও দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে পুষ্টির এই উৎসটি সহজলভ্য করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক