আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় আদালতটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবারের এই পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এই আদালত দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে, অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ব রাজনীতির মারপ্যাঁচে আইসিসির কার্যকারিতা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের এই একতরফা সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
নাভি পিল্লাইয়ের মতো একজন প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার ঠিক পরপরই এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পেছনে ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অতীতেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর মার্কিন চাপের নজির রয়েছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিক শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলবে। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক আদালতের ভূমিকা যখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তখনই এমন বাধার সৃষ্টি করা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার কর্মীরা।
উল্লেখ্য যে, অতীতে বিভিন্ন দেশের স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী, যেমনটি দেখা গেছে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে, আন্তর্জাতিক নানা নিয়মনীতি ও মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করে নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নানামুখী দমনপীড়ন চালিয়েছিল। সেই সময়গুলোতেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা ন্যায়বিচার নিশ্চিতকারী বিভিন্ন ফোরামের ভূমিকা ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে আগামী দিনে বিশ্বজুড়ে স্বাধীন বিচার বিভাগের কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক