মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে আঘাত হানা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জ্বালানি তেল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আকস্মিকভাবে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী শেয়ার বাজার ও বন্ডবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রির তীব্র চাপ লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক অর্থবাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের মতো আমদানি নির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি উত্তোলনের প্রধান কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় তেলের আন্তর্জাতিক বাজার চরম অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, জ্বালানি তেলের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১০৫ দশমিক ৩ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন দীর্ঘমেয়াদি মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। উৎপাদক দেশগুলোর জোট এবং পরাশক্তিগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসন না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমতাবস্থায়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন অর্থনীতি ও বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক