হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী থাকা সুলতান হাওলাদার (৬৪) শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। কারা কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, সুলতান হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সাল থেকে একটি হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছিলেন। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি থাকা অবস্থায় নানা আইনগত প্রক্রিয়া চললেও তাঁর দণ্ড কার্যকর হয়নি। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বন্দি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
হাসপাতাল ও কারা কর্তৃপক্ষের যৌথ তত্ত্বাবধানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরহুমের মরদেহ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রস্তুতি চলছে। এই দীর্ঘ কারাবাসের সময়টিতে সুলতান হাওলাদারের পরিবারের সাথে যোগাযোগের বিষয়টিও কারা কর্তৃপক্ষ দেখভাল করেছে বলে জানা গেছে। সুলতান হাওলাদারের মৃত্যুর পর কারা অভ্যন্তরে এবং বন্দ মহলে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি নিষ্পত্তির বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার রয়েছে।
এই ঘটনার পর কারা নিরাপত্তা এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বন্দিদের সার্বিক সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। কারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মানুযায়ী একজন বন্দির স্বাভাবিক মৃত্যুর পর ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয় এবং ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ার আইনগত দিকগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক