প্রশাসন যদি কোনো অবস্থায় ন্যায়বিচারের পথ ছেড়ে জালিমের ভূমিকা পালন করে, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং জনগণ তা রুখে দাঁড়াবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সম্প্রতি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করবে—এটাই সবার প্রত্যাশা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অতিউৎসাহী ভূমিকা ও বৈষম্যমূলক আচরণ জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার আমলে প্রশাসনকে যেভাবে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল, বর্তমান সময়েও যদি সেই একই ধারার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে দেশবাসী তা শান্তভাবে সহ্য করবে না। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত ছিল। বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে অবশ্যই জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে।
বৈঠকে তিনি আরও যোগ করেন যে, অতীতে কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ যেভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল, তার পরিণতি সবার জানা। এ ধরনের ফ্যাসিবাদী দোসরদের পুনর্বাসনের যেকোনো চক্রান্ত কিংবা তাদের প্রতি প্রশাসনিক নমনীয়তা জনগণ কখনোই বরদাশত করবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যেকোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষতার বিকল্প নেই।
পরিশেষে, দেশের সামগ্রিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে প্রশাসনকে অবিলম্বে সব ধরনের অনৈতিক ও জুলুমের পথ পরিহার করে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান জামায়াত আমির। অন্যথায় উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির সমস্ত দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে বলে তিনি কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা মনে করছেন, এই হুঁশিয়ারি বর্তমান প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি বড় বার্তা হয়ে এসেছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক