শিশু নিখোঁজ হলে বা হারিয়ে গেলে কী করা উচিত এই প্রসঙ্গটি বাংলাদেশে সম্প্রতি আবার আলোচনায় এসেছে; বিশেষ করে কুমিল্লায় ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের নিখোঁজ হওয়া এবং মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন অনভিপ্রেত পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত, শিশুকে নিকটস্থ এলাকায়, খেলার মাঠে বা পরিচিত আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে তড়িঘড়ি করে খোঁজাখুঁজি শুরু করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্ধান না পেলে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে নিকটস্থ থানায় গিয়ে অবিলম্বে একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করতে হবে।
সাংবাদিকদের বলেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা, শিশু নিখোঁজের ঘটনায় কোনোভাবেই ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করার নিয়মের অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা উচিত নয়। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশি সহায়তা নেওয়া বাঞ্ছনীয়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুর সাম্প্রতিক ছবি ও পরনের পোশাকের বিবরণসহ নিখোঁজ বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।
এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অভিভাবকদের সবসময় অধিকতর সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শিশুদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা এবং অপরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে তাদের সচেতন করে তোলা এখন সময়ের দাবি। রাষ্ট්රীয় ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশু সুরক্ষায় কঠোর আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক