চলতি অর্থবছর সরকারের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে যে পরিপত্র দিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়, সেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট ভবন নির্মাণে ছাড় দিয়েছে সরকার। প্রায় দুই দশক পর ফেব… এই পদক্ষেপে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গতিশীল রাখার প্রয়াস দেখা গেছে। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামাল দিতে সরকার বিভিন্ন খয়েয়ী ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন নির্দেশনায় জানানো হয়েছে যে, দেশের শিক্ষা খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সরাসরি জড়িত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর ব্যয় সংকোচন কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বা ধীরগতির কাজগুলো পুনরায় গতি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা। তবে অন্যান্য অহেতুক ও কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ভবন নির্মাণ বা বিলাসবহুল ব্যয় সংক্রান্ত কার্যক্রম আগের মতোই কঠোরভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে মেগা প্রকল্পের নামে অর্থ অপচয়ের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে এখন জনকল্যাণমুখী খাতে নজর দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কৃচ্ছ্রসাধনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট বরাদ্দ পুনর্বিন্যাস করছে।
সামগ্রिक এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘমেয়াদী রূপান্তরে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টমহল মনে করছে। সরকারের এই নীতিগত ছাড়ের ফলে মাঠপর্যায়ে উন্নয়ন কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক