বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে দিন কাটত বুলবুলি খাতুনের। চরম দারিদ্র্য ও সামাজিক নানা প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকা এই নারী আজ এক অন্য সংগ্রামের জয়ী বীর। এখন সেই বুলবুলি খাতুনই নিজের ছোট্ট দোকানে বসে ব্যবসা করছেন। ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের এই নারী। বুলবুলি খাতুনের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটি কেবল একজন নারীর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি গ্রামীণ সমাজের অর্থনৈতিক সংগ্রামের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে অভাবের তাড়নায় বুলবুলি খাতুন বাধ্য হয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভিক্ষা করতেন। কিন্তু তার ভেতরে সবসময় নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জেদ কাজ করত। সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম এবং স্থানীয় কিছু সচেতন মানুষের সহযোগিতায় তিনি অবশেষে ভিক্ষাবৃত্তি চিরতরে পরিহার করার সিদ্ধান্ত নেন। ক্ষুদ্র পুঁজি আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি আলুকদিয়া বাজারে একটি ছোট দোকান চালু করেন। বর্তমান সময়ে তার এই ব্যবসা কেন্দ্র করেই তার প্রতিদিনের জীবন আবর্তিত হচ্ছে এবং তিনি সম্মানের সাথে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
বুলবুলি খাতুনের এই পরিবর্তনের ফলে তার পারিবারিক জীবনেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকার অন্যান্য অসহায় নারীরাও এখন তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এবং স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বুলবুলির মতো নারীদের যদি নিয়মিত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়, তবে সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমানের আরও দ্রুত উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে। বুলবুলি খাতুন এখন সমাজের মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকা এক অনুপ্রেরণাদায়ী নারী, যিনি প্রমাণ করেছেন সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে নেওয়া সম্ভব।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক