এনআরবিসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আদনান ইমাম ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে প্রায় ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ঋণ খেলাপির অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)। পাওনা আদায়ে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এনআই) অ্যাক্ট ও অর্থঋণ আদালত আইনে মামলা করেছে ব্যাংকটি।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বারবার তাগাদা ও অনুরোধের পরও ঋণের অর্থ পরিশোধ করেননি আদনান ইমাম। দীর্ঘ বকেয়া ও খেলাপি পরিস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া ছাড়া ব্যাংকের সামনে বিকল্প উপায় ছিল না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরই মধ্যে আদালত ব্যাংকের পক্ষে ৫০৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকার রায় ও ডিক্রি জারি করেছেন এবং আদনান ইমাম ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
আদনান ইমাম বর্তমানে দুবাই ও লন্ডনে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে তাঁর বাবা চৌধুরী ফজলে ইমাম, মা নিলুফার ইমাম, বোন ডা. জাহারা রাসুল, স্ত্রী নাদিয়া মোমেন ইমাম, ভগ্নিপতি আমের রাসুল ও তাঁর সহযোগীরাও যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।
আদনান ইমাম দেশে-বিদেশে একাধিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত। তিনি আইপিই গ্রুপ (হোল্ডিংস) লিমিটেড, গ্রিন অ্যান্ড রেড টেকনোলজিস লিমিটেড, এডব্লিউআর ডেভেলপমেন্টস বিডি লিমিটেড ও আইপিই ক্যাপিটাল লিমিটেডের (যুক্তরাজ্য) ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে আসীন রয়েছেন। এছাড়াও, ফ্রন্টিয়ার টাওয়ারস বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদেও তিনি যুক্ত।

ব্যাংক সূত্র জানায়, ঋণ বিতরণের পর থেকে এ পর্যন্ত কোন কিস্তি পরিশোধ করেননি আদনান ইমাম, যার জেরে আইনি ও আদায় প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। এমনকি এনআরবিসি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এর দায়ও কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশি নাগরিক আদনান ইমামের লন্ডন ও বাংলাদেশে প্রায় ২০টি কোম্পানি রয়েছে, যার অধিকাংশই বেনামি প্রতিষ্ঠান বলে অভিযোগ রয়েছে। শেয়ারবাজার থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং ব্যাংকঋণের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ যুক্তরাজ্যে এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তালিকাভুক্ত সন্দেহভাজন শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের তালিকায়ও তাঁর নাম রয়েছে।