হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গভীর অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে এই কৌশলগত জলপথটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে এক নজিরবিহীন স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে এবং নিজেদের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে রক্ষা করতে উপসাগরীয় দেশগুলোর নীতিনির্ধারকরা এখন গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
যুদ্ধের আগে এই জলপথ দিয়ে যে স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘ্নে পণ্য এবং জ্বালানি পরিবহন করা হতো, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আর আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। আঞ্চলিক বাণিজ্যের এই ধীরগতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট চলতে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমান এই জটিল ও বহুমুখী পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে শেষ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো কৌশলগত সমঝোতায় যেতে হতে পারে আরব দেশগুলোকে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বিকল্প পথ খোঁজার পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিল ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সামনে এই মুহূর্তে খুব বেশি একটা বিকল্প খোলা নেই।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক