আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রায় পুরো প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত সব স্তরের নির্বাচনের জন্যই দলীয়ভাবে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর এই একক প্রস্তুতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে কোণঠাসা রাখা হলেও দলটির মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক শক্তি এবং সুশৃঙ্খল ক্যাডার বাহিনী তাদের সবসময় নির্বাচনী মাঠে একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দী হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও দলের অন্দরে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং নারী নেতৃত্বকে এগিয়ে নিতে দলটি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও তার দোসররা বিরোধী মতের ওপর সীমাহীন নিপীড়ন চালিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। সেই দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির মাধ্যমেই দেশ আবার গণতন্ত্রের পথে ফিরছে। বিশেষ করে, কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠন যেমন কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগ কিংবা কার্যত নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের ফ্যাসিবাদী তাণ্ডব থেকে মুক্ত হয়ে জনগণ এখন নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য মুখিয়ে আছে।
স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে জামায়াত নেতারা বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানান যে, তাদের দল সবসময় জনগণের অধিকারের পক্ষে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে সৎ, যোগ্য এবং জনবান্ধব প্রতিনিধি নির্বাচন করার ক্ষেত্রে তারা কোনো আপস করবে না। নারী প্রার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাদের জয়ী করে আনতে মাঠপর্যায়ে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সার্ব পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, জামায়াতের এই সুনির্দিষ্ট ও গোছানো কৌশল দেশের আগামী দিনের রাজনীতিতে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক