গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং সাধারণ মানুষের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গণমাধ্যমকে জানান যে, দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক শাসন ব্যবস্থার কারণে মাঠপর্যায়ে সেবার মান চরমভাবে ব্যাহত হয়েছিল এবং বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে স্থানীয় সরকারকে পুরোপুরি পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, কার্যকর গণতন্ত্র কেবল রাজধানী কেন্দ্রিক হতে পারে না; এর শেকড় মজবুত করতে হলে ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আর্থিক সচ্ছলতার বিকেন্দ্রীকরণ ঘটাতে হবে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলীয়করণের মাধ্যমে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে লুটপাটের আখড়ায় পরিণত করা হয়েছিল। জনগণের মৌলিক অধিকার ও সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত দিনে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জবাবদিহিতার সংস্কৃতি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছিল। তৎকালীন সময়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও তাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনগুলোর টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্বের কারণে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বারবার থমকে গিয়েছিল। বর্তমান প্রশাসন সেই ক্ষত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে জনমুখী ও দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।
ড. আবদুল মঈন খান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা হস্তান্তর এবং স্থানীয় রাজস্ব আদాయের পরিধি বৃদ্ধি করার মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থানীয় সরকার গড়ে তোলা সম্ভব। এই লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যমকর্মীসহ সমাজের সকল স্তরের বুদ্ধিজীবী ও সচেতন নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক