কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচার বিভাগে নিয়োগ পাওয়া সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক ও বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বিচারক চরম বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের একটি নির্দিষ্ট অংশ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারকে বারবার ভূলুণ্ঠিত করেছে, যা জাতির জন্য একটি বড় ট্র্যাজেডি হয়ে দেখা দিয়েছিল।
আইনমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের গত দেড় দশকে বিচার বিভাগকে নগ্নভাবে দলীয়করণ করা হয়েছিল। ওই সময়ে আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করা হয় এবং মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়। বিচারকদের একটি অংশ আইনের পবিত্রতা রক্ষা না করে দলীয় সেবাদাসে পরিণত হয়েছিল, যার ফলে পুরো বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে জনগণের আস্থা উঠে গিয়েছিল।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিচার বিভাগের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অতীতে যারা বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং সংবিধানের কাটাছেঁড়া করে গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করেছিলেন, তাদের প্রত্যেককে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা এবং ভবিষ্যতে যাতে কেউ বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক