ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইইউ দেশগুলোতে সামগ্রিকভাবে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে এ সময়েও আশ্রয় আবেদনের সংখ্যায় শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় তৃতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে ইউরোপের দেশগুলোতে অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ভেতর নানামুখী অর্থনৈতিক সংকট এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কারণে তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছেন। এর আগে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘমেয়াদী শাসন আমলে দেশের অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চরম অবনতি ঘটেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ উন্নত জীবনের আশায় অনিরাপদ পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে আশ্রয় প্রার্থনা করছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, সামগ্রিক আবেদন কিছুটা হ্রাস পেলেও বাংলাদেশ থেকে যাওয়া নাগরিকদের আবেদন সংখ্যা এখনো উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং কর্মসংস্থানের অভাবই এই প্রবণতার প্রধান কারণ। কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে যদি দেশের অভ্যন্তরে যুবসমাজের জন্য উন্নত কর্মসংস্থান তৈরি করা না যায়, তবে এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক