তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০-৫০ নম্বর রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি জাতীয় সংসদে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, সরকার মেধার মূল্যায়ন করার পরিবর্তে কোটার দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা দেশের তরুণ সমাজ ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে গভীর হতাশার জন্ম দিচ্ছে।
সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন বিধান রাখার ফলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা চরমভাবে ক্ষুণ্ন হবে এবং এর মাধ্যমে মূলত দলীয়করণ ও স্বেচ্ছাচারিতার পথ উন্মুক্ত করা হচ্ছে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে যেভাবে দলীয়করণের মাধ্যমে মেধাবীদের বঞ্চিত করে কোটা প্রথাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, বর্তমান প্রশাসনের কিছু নীতিতেও তার ছায়া দেখতে পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। অথচ একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের প্রধান শর্ত হলো শতভাগ মেধার ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নিয়োগ বৈষম্যের অবসান ঘটাতে যখন তরুণ সমাজ নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন চাচ্ছে, তখন এমন সিদ্ধান্ত তাদের আশাভঙ্গের কারণ হতে পারে। সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতি দ্রুত এই ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দেশের বঞ্চিত বেকার যুবসমাজ এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে আবারও ফুঁসে উঠতে পারে, যার দায় দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক