রাজধানীর সবুজবাগে কাতারপ্রবাসী সিফাত উল্লাহকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃত দুজন হলেন আল আমিন হোসেন ও মো. সাজিদুল ইসলাম সাজিদ। গত সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে সাংবাদিকদের জানান র্যাবের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, নিহত সিফাত উল্লাহ সম্প্রতি কাতার থেকে দেশে এসেছিলেন। গত সোমবার রাতে তিনি সবুজবাগ এলাকার এক তরুণীর বাসায় যান। পূর্বপরিচিত ওই তরুণীর সঙ্গে সিফাতের বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। সিফাত ওই বাসায় অবস্থান করার সময় সেখানে উপস্থিত হন তরুণীর সাবেক প্রেমিক আল আমিন হোসেন। এ সময় সিফাতের সঙ্গে আল আমিনের তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে আল আমিন তার সঙ্গে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সিফাতকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই সিফাতের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত সিফাতকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় গভীর শোক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। নিহত প্রবাসীর পরিবারের পক্ষ থেকে সবুজবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর ছায়াতদন্ত শুরু করে র্যাব এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান নিশ্চিত করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসে।
গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে র্যাবের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয় যে, মূলত ব্যক্তিগত ক্ষোভ এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আসামিদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সচেতন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক