হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের প্রকাশিত তথ্যে বড় ধরনের ফারাক দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কৌশলগত এই জলপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল পর্যবেক্ষণ নিয়ে দুই দেশের পরিসংখ্যানের এই অমিল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস বা ইউকেএমটিও জানিয়েছে যে, তাদের স্বাধীনভাবে সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী গত ৭২ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে দুই দিক মিলিয়ে প্রতিদিন মাত্র এক অঙ্কের সংখ্যক জাহাজ চলাচল করেছে। অর্থাৎ এই জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে, যা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ইউকেএমটির এই তথ্যের পর আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্য মহলে নানাবিধ আলোচনার জন্ম হয়েছে।
পক্ষান্তরে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি বজায় রয়েছে। দুই দেশের এমন পরস্পরবিরোধী তথ্যের কারণে বিশ্বজুড়ে জাহাজমালিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো আরও সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছে যাতে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংবেদনশীল সমুদ্রপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক