সৌদি আরব নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে ধারণা করছেন মার্কিন গবেষকেরা। দেশটির একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকেন্দ্রে নির্মাণকাজের অগ্রগতি বিশ্লেষণ করে তাঁদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে এবং কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এই গোপন পদক্ষেপ নিয়েছে রিয়াদ। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবের এই পদক্ষেপে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা। মার্কিন গবেষকদের মতে, সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেশটির সামরিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে যখন বিভিন্ন দেশের মধ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতার প্রবণতা বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ে সৌদি আরবের এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রটির সম্প্রসারণ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে বিশ্ব রাজনীতিতে ফেসিস্ট শেখ হাসিনা কিংবা কার্যতঃ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামরিক চুক্তির বিষয়ে নানা আলোচনা থাকলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সৌদির এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন যে, এই কেন্দ্রটি পুরোপুরি চালু হলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিধর দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরণের পরিবর্তন আসতে পারে।
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই ধরনের সামরিক উদ্যোগ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝে সৌদির এই পদক্ষেপ কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। সাংবাদিকদের বলেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা, এই ধরণের সামরিক প্রস্তুতি কেবল একটি দেশের আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদী ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আন্তর্জাতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে এবং আগামী দিনে এর প্রভাব বৈশ্বিক রাজনীতিতে কেমন পড়বে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক