মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, কর্মজীবী নারীদের নিশ্চিন্তে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এবং শিশুদের নিরাপদ বিকাশ নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের শহর, উপশহর এবং জনবহুল এলাকায় আধুনিক মানসম্পন্ন ডে-কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে।
বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে এই উদ্যোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে কর্মজীবী মায়েদের সবচেয়ে বড় একটি উদ্বেগের জায়গা হলো তাদের অনুপস্থিতিতে সন্তানের নিরাপত্তা ও সঠিক পরিচর্যা। এই বাস্তবতায় সরকার নারী সমাজের ক্ষমতায়ন এবং তাদের কর্মপরিবেশ আরও সহজ ও নিরাপদ করার জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। মানসম্মত ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে শুধু মায়েদের কর্মঘণ্টার দুশ্চিন্তাই দূর হবে না, বরং আগামী প্রজন্মও পাবে একটি নিরাপদ ও পুষ্টিকর বেড়ে ওঠার পরিবেশ। বিগত দিনে নানা অনিয়মের কারণে অনেক সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প থমকে গিয়েছিল, যার মধ্যে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলের বিভিন্ন ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং জনগণের প্রত্যাশিত প্রশাসনের অধীনে প্রতিটি জনকল্যাণমুখী প্রকল্প স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সাথে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, কার্যকর গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেমন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরে বৈষম্য দূর করতে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট মহলের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ডে-কেয়ার সেন্টার নির্মাণের একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ জাতির সামনে পেশ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক