রাঙামাটির সাজেক সড়কের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ও চলমান সংকট নিরসনে সম্প্রতি দুই সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলেও তা থেকে কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। ফলে পাহাড়ি জনপদে এখনো চরম উত্তেজনা ও সংকট বিরাজ করছে। বৈঠকে উপস্থিত পক্ষগুলো বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করলেও মূল সমস্যা নিরসনে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের অবিলম্বে সাজেক ও এর আশপাশের এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট দাবিতে এখনো অনড় রয়েছে স্থানীয় আন্দোলনকারীরা। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, যতদিন পর্যন্ত এই সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের এলাকা থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা না হবে, ততদিন পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও কর্মসূচি চলবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এই দাবি থেকে তারা একচুলও নড়বেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
বৈঠক শেষে সোমবার রাতে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয় যে, প্রশাসনের তরফ থেকে নানা আশ্বাসের কথা বলা হলেও তাদের প্রধান দাবি পূরণে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে সাজেকগামী সড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্ধারিত অবরোধ কর্মসূচি আগের মতোই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এই অবরোধের ফলে সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ রয়েছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধান প্রত্যাশা করছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক