পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে, যেখানে ছয় বছর আগের একটি হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে নিজ দলের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন এক বিধায়ক। উত্তর ২৪ পরগনার শিল্পাঞ্চলে এক বিজেপি নেতাকে গুলি করে হত্যার মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রভাবশালী নেতা অর্জুন সিংহকে সরাসরি নিশানা করেছেন দলটির তরুণ বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচী। রোববার এ নিয়ে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলসহ রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ক্ষুব্ধ বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচী প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, যদি এই হত্যা মামলার যথাযথ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করা হয়, তবে তিনি বাধ্য হয়ে রাজ্য বিজেপি কার্যালয়ের সামনে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন। তাঁর এই চরম হুশিয়ারিতে দলের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মূলত দীর্ঘদিন ধরে চলা অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিগত দিনে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের শাসনকালের বিভিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতার জের ধরে এই ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা কেবল একটি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেই উন্মোচন করে না, বরং সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক গভীর সংকটকেও ফুটিয়ে তোলে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিরোধী দলের ওপর দমনপীড়ন চালানোর সময় যেসব রাজনৈতিক মামলার জট তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার নিরপেক্ষ সুরাহা না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। বিশেষ করে এই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঠিক বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই এই ধরনের চরমপন্থী প্রতিবাদের জন্ম হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দলের উচ্চপর্যায়ের থেকেও বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তবে কৌস্তুভ বাগচীর এই অনড় অবস্থান এবং আত্মহত্যার হুমকির পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণকে দারুণভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক