রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে তাদের নিজেদের জন্মভূমি বা আবাসস্থলকে প্রত্যাখ্যান করছে না, বরং যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তাদের পালিয়ে আসতে বাধ্য করেছিল, তারা সেই অনিশ্চিত পরিবেশে ফিরে যেতে রাজি নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি সাংবাদিকদের জানান, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা কেবল ত্রাণ বা দয়া চায় না, তারা নিজেদের অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিয়ে নিজ ভূমিতে ফিরতে চায়।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সংকট কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন করা এই বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বিগত দিনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের ভুল কূটনীতির কারণে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সাথে জোরালো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, মিয়ানমার সরকারের তরফ থেকে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে ভরসা পাচ্ছে না। তাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা ছাড়া এই সংকটের টেকসই সমাধান অসম্ভব। আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ এবং দাতা দেশগুলোকে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি মিয়ানমারের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক