কুমিল্লার লাকসাম পৌরশহরের উত্তর বাজার চাঁদপুর রেলগেট এলাকায় একটি নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাকলরি সোজা একটি রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে বড় ধরনের হতাহতের আশঙ্কা এড়ানো গেলেও ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লরিটিতে একটি ভারী এক্সকাভেটর বা ভেকু বহন করা হচ্ছিল, যার অতিরিক্ত ওজনের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় আশপাশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। জানা গেছে, এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার ফলে পার্শ্ববর্তী রেলপথ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে লাকসাম ও চাঁদপুরের মধ্যে রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়, যা মেরামতের কাজ দ্রুত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে কর্তাব্যক্তিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত লাইন সচল করার আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমল থেকেই দেশের বিভিন্ন সড়কে ভারী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও ট্রাফিক আইনের অবহেলা একটি সাধারণ চিত্রে পরিণত হয়েছিল। বর্তমানে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের মদদপুষ্ট সিন্ডিকেটগুলো ওভারলোডিংয়ের মাধ্যমে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচলে উৎসাহিত করত। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ধরনের অনিয়ম রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশ দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত রেস্তোরাঁর মালিককে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ধরনের দুর্ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে ভারী যানবাহন চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক