যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুত ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। দেশটির জ্বালানি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তেলের মজুত কমে ২৮৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ায় দেশটিতে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ওয়াশিংটন তাদের এই কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়তে বাধ্য হয়, যার ফলে গত চার দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে বর্তমানে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে এই সংরক্ষিত ভাণ্ডার।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে মার্কিন অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর। বিশেষ করে ইরানের সাথে ভূরাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং এর জেরে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম লাগাতার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এই সংকট মোকাবেলায় মার্কিন প্রশাসন অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম সহনীয় রাখতে এবং শিল্পোৎপাদন ও পরিবহন খাত সচল রাখতে তাদের সংরক্ষিত কৌশলগত ভাণ্ডার থেকে বড় অঙ্কের তেল বাজারে ছাড়তে শুরু করে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এভাবে জরুরি মজুত দ্রুত হ্রাস পেতে থাকলে আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের জ্বালানি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বৈশ্বিক এই জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব সামাল দিতে মার্কিন নীতিনির্ধারক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা নতুন বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন। একই সাথে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও জোরদার করা হয়েছে যাতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইনকে পুরোপুরি ভেঙে দিতে না পারে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক