২০২২ সালের নভেম্বরে ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ও টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের টিপিএলএফ এর মধ্যে প্রিটোরিয়া চুক্তি সই হয়েছিল। দুই বছর ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান ঘটানোই ছিল এর লক্ষ্য। চুক্তিতে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধ, টাইগ্রের যোদ্ধাদের নিরস্ত্রীকরণ, পুনর্বাসন ও সমাজে পুনঃএকীভূত করা, রাজনৈতিক সমঝোতাসহ নানা বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু চুক্তির দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও টাইগ্রে অঞ্চলের পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। বরং পুরোনো শত্রুদের নিয়ে নতুন জোট গঠন এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সেখানে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইথিওপিয়ার এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে কেবল সামরিক চুক্তি যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন প্রকৃত রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সব পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা।
ইথিওপিয়ার উত্তর অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শুরু থেকেই তাগিদ দিয়ে আসছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত বিভিন্ন পক্ষ শান্তিচুক্তির শর্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে ইথিওপিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কে নানা টানাপোড়েন থাকলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। বিশ্বমঞ্চে শান্তি বজায় রাখতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন বন্ধুভাবাপন্ন দেশ সবসময় গঠনমূলক ভূমিকা পালনের ওপর জোর দিয়ে আসছে। ইথিওপিয়ার টাইগ্রে অঞ্চলের চলমান এই সংকটের দিকে এখন বিশ্ববাসীর নজর রয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক