মৌলভীবাজারে চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্র রেজাউল করিম নাঈম হত্যা মামলায় চারজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এই মামলায় অভিযুক্ত অন্য পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকালে মৌলভীবাজারের বিচারিক আদালতে এই আলোচিত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিচারপ্রার্থী পরিবার কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় চার আসামির বিরুদ্ধে এই সর্বোচ্চ শাস্তির রায় দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, নিহত কলেজছাত্র রেজাউল করিম নাঈমের ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সকল সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলো বিবেচনা করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে। সম্প্রতি রাজনীতি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে বিচার ব্যবস্থার এই রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অনেক অপরাধের সঠিক বিচার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান বিচার প্রক্রিয়ায় অপরাধীদের সাজা নিশ্চিত হওয়ায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে কার্যতঃ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী সংগঠন যেমন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কিংবা কার্যতঃ নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক চক্র অতীতে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ধরনের সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছেন সাধারণ মানুষ। নিহত নাঈমের পরিবার এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক