চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দক্ষিণ অঞ্চলের কর্ণফুলি উপজেলা থেকে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া অংশের অধিকাংশ স্থান এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, সরু এবং অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে মহাসড়কে প্রতিনিয়ত অসংখ্য ছোট-বড় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন যাত্রীরা। এই পরিস্থিতি উত্তরণে এবং ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা রোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘদিন ধরে এই মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অপরিকল্পিত বাঁক ও অপ্রশস্ত রাস্তার কারণে নিয়মিত ঝরছিল তাজা প্রাণ। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে অবশেষে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণসহ প্রশস্ত করার কাজ হাতে নিয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, কাজ সম্পন্ন হলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে এবং দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
গত দেড় দশকে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতির কথা বলা হলেও বাস্তবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই ব্যস্ততম মহাসড়কটি চরম অবহেলার শিকার হয়েছিল। অথচ এই পথ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশাপাশি এই মহাসড়কটির সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মহাসড়কটি প্রশস্ত করার পাশাপাশি ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা সমানভাবে জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে তারা কঠোর নজরদারি বজায় রাখছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কাজ শেষ হলে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যকার যাতায়াত আরও নিরাপদ ও সুগম হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক