অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করে তুলনামূলকভাবে দুর্বল একটি আইন পাশের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিরোধী দল। এই সিদ্ধান্তের জেরে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য ও নেতারা। মানবাধিকার সুরক্ষার মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়ে সরকারের এমন নমনীয় অবস্থান দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদে বিতর্কিত এই বিলটি উত্থাপনের জন্য আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে আহ্বান জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিলটি উত্থাপনের পরপরই বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। তাদের মতে, বর্তমান সরকারের আমলে মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করার কথা থাকলেও, এই নতুন বিলটি পাসের মাধ্যমে কমিশনের কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে সীমিত করা হচ্ছে, যা জনস্বার্থের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
গণমাধ্যমকে জানান, বিরোধী দলের নেতারা এ সময় সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন যে, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঠিক তদন্তের স্বার্থে একটি শক্তিশালী কমিশন অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান উদ্যোগটি সেই প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। এর প্রতিবাদেই তারা সংসদ অধিবেশਨ বর্জন করে ওয়াকআউট করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা সংসদের ভেতরে সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে বিরোধীদের শক্ত অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ। মানবাধিকার কমিশনকে দুর্বল করার যে অভিযোগ উঠেছে, তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও বড় বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় আইনটির বিভিন্ন ধারা সংশোধনের জন্য সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধী দলের নীতিনির্ধারকরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক