যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ের চলমান সামরিক হুমকিগুলো আপাতত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধেরই প্রতিফলন এবং এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন এক বিশ্লেষক। অস্ট্রিয়ার সাবেক সামরিক অ্যাটাশে উলফগ্যাং পুশটাই গণমাধ্যমকে জানান, আমি মনে করি না যে তার আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কোনো বড় ধরনের যুদ্ধ বা সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মূলত উভয় পক্ষের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে এই উত্তেজনার পারদ চড়ানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন রাজনীতিতে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাগ্য এবং তার প্রশাসনের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। দেশের ভেতরে অর্থনৈতিক চাপ এবং বৈদেশিক নীতির সফলতা-ব্যর্থতা ভোটারদের রায়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ কাজ করছে।
এদিকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে এই উত্তেজনার প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি বাজারের ওপর এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মহল পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যাতে কোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতির উদ্ভব হলে দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে কূটনৈতিক আলোচনার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক